ডায়াবেটিক ফুট
ডায়াবেটিসে রক্ত চলাচলের সমস্যা, পায়ে অবশ ভাব ও পায়ের ঘা। পা সুরক্ষিত রাখতে শুরুতেই পরীক্ষা জরুরি।
- রক্ত চলাচলের ঘাটতি
- পায়ের ঘা
- ডায়াবেটিস
যেসব রোগের চিকিৎসা করি
হাঁটতে গেলেই পায়ে ব্যথা হয়, আর থামলে কমে যায়? এটি পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজের (PAD) সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ। পায়ে রক্ত বয়ে নিয়ে যাওয়া ধমনিগুলো সরু হয়ে গেলে এই রোগ হয়। শুরুতেই পরীক্ষা ও সঠিক চিকিৎসা আপনার পা সুরক্ষিত রাখতে ও হাঁটাচলার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

PAD-তে পায়ে রক্ত সরবরাহকারী ধমনির ভেতরে চর্বিজাতীয় পদার্থ (প্লাক) জমতে থাকে। ধমনি সরু বা বন্ধ হয়ে যায়, যাকে বলে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস (Atherosclerosis), ফলে পায়ের পেশি ও চামড়ায় রক্ত কম পৌঁছায়। একই প্রক্রিয়া হার্ট ও মস্তিষ্কের ধমনিতেও হতে পারে।
ধূমপান, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হাই কোলেস্টেরল থাকলে আর বয়স বাড়লে PAD-এর ঝুঁকি বাড়ে। শুরুর দিকে হয়তো শুধু হাঁটার সময় ব্যথা হয়। কিন্তু রোগ বাড়লে বিশ্রামের সময়ও ব্যথা, না-সারা ঘা, আর গুরুতর ক্ষেত্রে পায়ের পাতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই পায়ে রক্ত চলাচলের সমস্যাকে অবহেলা করবেন না।
নিচের কোনোটি মিলে গেলে পরামর্শের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার কথা ভাবুন:
প্রতিটি পরীক্ষার শুরু মন দিয়ে শোনা থেকে। কোনো পরামর্শ দেওয়ার আগে আমরা সময় নিয়ে পুরো ছবিটা বুঝে নিই।
আলোচনা
স্পেশালিষ্টের সাথে বসে আপনার সমস্যা, দুশ্চিন্তা আর আপনি কী চাইছেন, সবকিছু নিয়ে কথা বলুন।
আপনার স্বাস্থ্যের ইতিহাস
আপনার শারীরিক অবস্থা, আগের অসুখ, ওষুধ, পরিবারের ইতিহাস ও রোজকার রুটিন জেনে নেওয়া হয়, কারণ প্রায়ই এখান থেকেই সমস্যার সূত্র মেলে।
শারীরিক পরীক্ষা
আলাদা ঘরে, যত্নসহকারে, আলতো হাতে সমস্যার জায়গাটি পরীক্ষা করা হয়।
রিপোর্ট খুঁটিয়ে দেখা
আপনার আনা আগের স্ক্যান, টেস্টের রিপোর্ট ও প্রেসক্রিপশন দেখে নেওয়া হয়, যাতে অকারণে কিছু আবার করাতে না হয়।
প্রয়োজন হলে তবেই টেস্ট
আরও তথ্যের দরকার হলে কোন টেস্ট করাতে হবে আর কেন, আপনার স্পেশালিষ্ট তা বুঝিয়ে বলবেন।
পায়ের রক্ত চলাচল বুঝতে স্পেশালিষ্ট এবিআই টেস্ট (ABI test: গোড়ালি ও হাতের রক্তচাপের তুলনা) বা ডপলার আলট্রাসাউন্ড (Doppler ultrasound) স্ক্যান, আর প্রয়োজনে আরও কিছু স্ক্যান করানোর পরামর্শ দিতে পারেন।
চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার কারণ আর তা আপনার জীবনে কতটা প্রভাব ফেলছে তার ওপর। আপনার জন্য উপযুক্ত প্রতিটি উপায়ের উপকার ও ঝুঁকি স্পেশালিষ্ট সহজ করে বুঝিয়ে বলবেন, যাতে দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
ধূমপান ছেড়ে দেওয়া, নিয়ম করে হাঁটা, আর সুগার, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের ওষুধ: PAD-এর প্রত্যেক রোগীর চিকিৎসার ভিত্তি এগুলোই।
একটি ছোট্ট ছিদ্র দিয়ে, মাথায় ছোট বেলুন লাগানো একটি সরু নল (ক্যাথেটার) সরু হয়ে যাওয়া ধমনিতে পৌঁছে দেওয়া হয়। বেলুনটি আলতো করে ফুলিয়ে ধমনিটি প্রশস্ত করা হয় ও রক্ত চলাচল ফিরিয়ে আনা হয়, বড় অপারেশন ছাড়াই।
কিছু ধমনিতে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির পরে ধমনিটি খোলা রাখতে একটি স্টেন্ট, অর্থাৎ জালের মতো একটি ছোট নল, বসানো হয়।
কোনো প্রসিডিওরের প্রয়োজন হলে আপনার স্পেশালিষ্ট তা বিস্তারিত বুঝিয়ে বলবেন ও হাসপাতালে তার ব্যবস্থা করে দেবেন। পরবর্তী ফলো-আপের জন্য আপনি আবার এখানে, Vessels Clinic-এই আসবেন।
না। মেরুদণ্ড, জয়েন্ট বা পেশি থেকেও এমন ব্যথা হতে পারে। পরামর্শ ও প্রয়োজনে কিছু সহজ টেস্টের মাধ্যমে বোঝা যায়, রক্ত চলাচল কমে যাওয়াই আসল কারণ কি না।
তা নয়। অনেকেই নিয়মিত হাঁটা ও ওষুধে উপকার পান। উপসর্গের কারণে রোজকার জীবন ব্যাহত হলে, বা রক্ত চলাচল অনেকটা কমে গেলে তবেই অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি বা স্টেন্টিংয়ের কথা ভাবা হয়।
পারে। ধূমপান না করা, নির্ধারিত ওষুধ নিয়মিত খাওয়া, আর ডায়াবেটিস, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখলে সেই ঝুঁকি কমে। নিয়মিত ফলো-আপে কোনো পরিবর্তন হলে তা শুরুতেই ধরা পড়ে।
আরও জানুন
ডায়াবেটিসে রক্ত চলাচলের সমস্যা, পায়ে অবশ ভাব ও পায়ের ঘা। পা সুরক্ষিত রাখতে শুরুতেই পরীক্ষা জরুরি।
পা ফুলে যাওয়া, ভারী লাগা বা ব্যথা আর পায়ের যে ঘা সারছে না, এসবের পিছনে প্রায়ই থাকে পায়ের শিরার সমস্যা।
পায়ে ফুলে ওঠা, পেঁচানো বা ব্যথাযুক্ত শিরা ও সরু স্পাইডার ভেইন। চিকিৎসায় আছে লেজার থেরাপি, রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন (RFA), গ্লু থেরাপি ও স্ক্লেরোথেরাপির মতো মিনিমালি ইনভেসিভ উপায়।
সময় নিয়ে স্পেশালিষ্টের পরামর্শ পেতে WhatsApp-এ মেসেজ করুন বা ক্লিনিকে ফোন করুন।